শার্শায় স্ত্রী ও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরকীয়া, সম্পদ আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আপডেট: ২ মিনিট আগে

যশোরের শার্শায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও কৌশলে সম্পদ নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মো. নুরুজ্জামান (৩৯) নামে এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে মো. বুলবুল হোসেন (৪০) ও মোছা. ফারহানা পারভীন দুলালী (৩৫) এ ঘটনায় শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নুরুজ্জামান।
নুরুজ্জামান শার্শা কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, স্ত্রী মোছা. ফারহানা পারভীন দুলালী (৩৫) তার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও সম্পদ নিজের নামে লিখে নেন। পরে তিনি সন্তানকে রেখে অন্যত্র চলে যান। এসব ঘটনায় আদালতে দুটি মামলা এবং সর্বশেষ নিরাপত্তা চেয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নুরুজ্জামান।
লিখিত অভিযোগ ও নুরুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী স্বর্ণালংকার, একটি সমিতি থেকে তোলা দেড় লাখ টাকা এবং সম্পদ বিক্রির আরও প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে চলে যান। এ ছাড়া স্ত্রীকে বিশ্বাস করে খুলনার শিরোমণি এলাকায় চার শতক জমির ওপর নির্মিত একটি একতলা বাড়িও তার নামে লিখে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে নুরুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে শার্শা এলাকায় তাকে দেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এ সময় আদালতে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। তাকে মারধরের জন্যও অভিযুক্তরা উদ্যত হয়েছিলেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
শার্শা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে নুরুজ্জামান দাবি করেন, তার স্ত্রী মোছা. ফারহানা পারভীন দুলালী শ্যামলাগাছীর মো. বুলবুল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাকে বিয়ে করে কিছুদিন আগে ১০ বছর বয়সী ছেলে মো. নুর আলমকে রেখে চলে যান। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীন কোনো প্রমাণের কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ঘটনায় নুরুজ্জামান যশোর আদালতে দুটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন। মামলা দুটি হলো সিআর ৩৮৫/২৬, তারিখ ১৯ জুলাই ২০২৬ এবং সিআর ৪৪৯/২৬, তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তার দাবি, মামলা দুটি বর্তমানে বিচারাধীন।
অন্যদিকে নুরুজ্জামান দাবি করেন, তাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে তার সাবেক স্ত্রীও গত ৪ আগস্ট যশোর আদালতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
তবে নুরুজ্জামানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. বুলবুল হোসেন। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দিইনি। ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী ও সন্তানকে সম্পদ লিখে দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নুরুজ্জামানের অভিযোগের বিষয়ে তার স্ত্রীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নুরুজ্জামান বলেন, মামলা করার পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমার নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চাই।
শার্শা থানায় দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।