সময়েরঘটনা
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ

যশোরে আজ চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড প্রথম ধাপে পাচ্ছেন ২০৪২ নারী

A

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬

আপডেট: ২ মিনিট আগে

যশোরে আজ চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড প্রথম ধাপে পাচ্ছেন ২০৪২ নারী

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। আজ ১৬ মে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁচড়া ইউনিয়নের চাঁচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ২০৪২ জন উপকারভোগী নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে। সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড। এর মাধ্যমে যশোরে চাঁচড়া ওয়ার্ডে আজ থেকে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। সারা দেশে এক সময় সব জেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে বিএনপি সরকার। তবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উদ্বোধনের মাত্র ৩ মাসের মাথায় যশোর জেলা স্থান পেলো ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার তালিকায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ করবেন যশোরের সন্তান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এর মাধ্যমে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সাথে যশোর আরও একবার সম্পৃক্ত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা। এরই ধারাবাহিক পদক্ষেপে গত ১০ মার্চ

আনুষ্ঠানিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি কার্ড দেওয়া হয়। দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডের নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হয়। কার্ডধারীরা প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন। মূলত নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে কার্ডধারী নারীকে এই অর্থ দেয়া হচ্ছে।

নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে মাসিক নগদ অর্থ ও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সহায়তা প্রদানের একটি কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নগদ সহায়তা পাচ্ছেন কার্ডধারী নারীরা। তবে অবশ্যই ফ্যামিলি কার্ডধারীদেরকে দ্বৈততা পরিহার করতে হবে। তারা টিসিবি স্মার্টকার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বা ভালনারেবল উইম্যান বেনিফিট কর্মসূচির সুবিধাভোগী হলে সেগুলি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। সাতটি বিশেষ শ্রেণির মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে যশোরে ২ হাজার ৪২ জন কার্ডধারী নির্বাচন

করতে সরকারের দেওয়া শর্ত ও উদ্দেশ্যাবলী

যাচাই করে সমাজসেবা ও পরিসংখ্যান দপ্তর। পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী হলে, কারো বাড়িতে এসি থাকলে বা ওই পরিবার এসি ব্যবহারকারী হলে, পরিবারে কেউ গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে অথবা বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা থাকলে তারা এই কার্ড পাবেন না।

এই পদ্ধতিতে যশোরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর চাঁচড়া ওয়ার্ডে এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবার বাছাই করা হয়। বাছাইয়ের আগে নির্দিষ্ট ফরম দেওয়া হয় পরিবারগুলোকে। সেগুলি যাচাই-বাছাই শেষে ওই ওয়ার্ডে ২ হাজার ৪২ জন বা ২ হাজার ৪২টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের জন্যে মনোনীত করা হয়। পাওয়ারযোগ্য কোনো পরিবারের সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫ জন হলে ১টি কার্ড পাবেন এবং ৬ বা ততোধিক সদস্য হলে ২টি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এই টাকা সরাসরি কার্ডপাওয়া নারীরা তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জি-টু-পি পদ্ধতিতে পাবেন। তাই কাউকে তুষ্ট করে কার্ড নিতে হবে না বা কারো সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি এই টাকা পাওয়ার পথে সহায়ক বা বাধা হবে না। পরবর্তীতে একই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের কার্যের সমন্বয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা পাবে পরিবারগুলো। তাছাড়া ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমেই শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকি দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ফলে সব দিক থেকেই যশোরের মানুষ এগিয়ে থাকলো।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু হলেও পরবর্তীতে জেলার সব দরিদ্র পরিবারকে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম জানান, স্বচ্ছ পদ্ধতিতে এবং সরকারের নীতি মেনে এই ২০৪২টি পরিবার নির্বাচিত করা হয়েছে। এখানে কে কোন দলের মানুষ বা কোন ধর্মের মানুষ এর কোনো কিছুই বিবেচনা করা হয়নি। একমাত্র বিবেচ্য বিষয় ছিল ওই পরিবার পাওয়ার যোগ্য কিনা সেটা যাচাই-বাছাই করা। তাই এখনো পর্যন্ত কার্ডপ্রাপ্তির যোগ্য পরিবার নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি। চাঁচড়া দিয়ে শুরু হলেও যশোরের সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের পাওয়ারযোগ্য সবাই সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে চাঁচড়া ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। তারা অপেক্ষায় আছেন যশোরের সন্তান ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাত থেকে ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার জন্যে। এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে যশোর জেলা ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় আসবে এবং একে একে সব দরিদ্রই সরকারের দেওয়া সুবিধা পাবেন।

এর আগে গত বুধবার সাংবাদিকদের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পরিবার বাছাই ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সভাপতি ও যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, জেলা সমাজসেবা অফিস এবং জেলা পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ। এদিন জেলার দরিদ্র পরিবারের সুসংবাদ হিসেবে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তারা।