সময়েরঘটনা
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ

ঝিকরগাছার রাজনীতিতে আরাফাত কল্লোলের উত্থান, যুবদলের নেতৃত্বে নতুন পরিচিতি

A

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

আপডেট: ২ মিনিট আগে

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের রাজনীতিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছেন আরাফাত কল্লোল। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ভূমিকা, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততা ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ঝিকরগাছা পৌরসভার নেতৃত্বেও তাঁকে দেখতে চান তাঁর সমর্থকদের কেউ কেউ।

২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় যুবদলের ঘোষিত ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান আরাফাত কল্লোল। কমিটিতে সভাপতি করা হয় নাজমুল হক নাজুকে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে আরাফাত কল্লোল এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য নির্ধারণ করা জরুরি।

উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হয়েছেন আরাফাত কল্লোল। বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এবং ঝিকরগাছা স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঝিকরগাছা পৌরসভার অনুমোদিত সার ডিলার হিসেবে ‘মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজ’-এর নামও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে কল্লোলের বক্তব্য, নির্যাতিত নেতা হিসেবে দলের কাছে কিছু সুবিধা প্রত্যাশা করা তাঁর কাছে অস্বাভাবিক নয়। তবে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন আরাফাত কল্লোল। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ ও সদস্য সচিব আঞ্জুরুল হক রানা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন বলে জানান। বিষয়টি তদন্ত করে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কমিটি গঠন নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতেই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে ঝিকরগাছার রাজনীতিতে আরাফাত কল্লোলের বর্তমান অবস্থান, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে হলে অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।